Wednesday, July 27, 2011

ছালাম দেওয়া প্রসঙ্গে

নিম্নলিখিত লোকদেরকে ছালাম দেওয়া মাকরুহ

(১) নামায পড়া অবস্থায়, (২) কোরআন শরীফ তেলাওয়াত করা অবস্থায়, (৩) ইলেম শিক্ষাদানকারী ও গ্রহণকারীকে যখন তাহারা শিক্ষাদান ও শিক্ষা গ্রহনের কাজে থাকে, (৪) খুৎবা ও হাদীস পাঠ কালে, (৫) হাদীস, খুৎবা, কোরআন ওয়াজ শ্রবণকারীকে, (৬) আজান একামত দেওয়ার সময়, (৭) গায়রে মাহরেম যুবতীকে, (৮) বেদ্বীনকে, (৯) ফাছেককে, (১০) খেলাধুলা ও শরীয়ত বিরোধী কার্যে রত ব্যক্তিকে, (১১) স্ত্রীর সাথে কথোপকথন কালে অপর লোকের, (১২) উলঙ্গ ব্যক্তিকে, (১৩) পায়খানা পেশাবের অবস্থায় থাকা কালে, (১৪) অতি ক্ষুধার্ত ব্যক্তিকে খানা খাওয়া অবস্থায়, (১৫) বেদায়াতী ও কবিরা গুনাহকারীকে তওবা করিবার পূর্বে ছালাম দেওয়া জায়েয নাই।

Tuesday, July 26, 2011

আমাদের আমলের হিসাব করি

নিজেদের আমলের হিসাব করা দরকার

পাঁচ প্রকারের আমলের সমষ্টিই হলো প্রকৃত ইসলামী জীবন ব্যবস্থা-

১। আকায়েদ/আকীদা বিশ্বাস দুরস্ত হতে হবে।

২। ইবাদত-নামায, রোযা, হজ্জ, যাকাত ইত্যাদি দুরস্ত হতে হবে।

৩। মোয়ামেলাত- বেচাকেনা হালাল তরিকায় হতে হবে। রুজি রোজগার হালাল তরিকায় হতে হবে, কোন প্রকারের আমদানী যেন হারাম না হয়।

৪। মোয়াশারাত- তথা পরস্পর আচার ব্যবহার চলাফেরা, উঠা-বসা, থাকা খাওয়া সবকিছু আল্লাহর হুকুম ও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুকরণে হতে হবে।

৫। আখলাক অর্থাৎ মানুষের আখলাক দুরস্ত হতে হবে। মন্দস্বভাব-যেমন হিংসা, অহংকার, পরশ্রীকাতরতা, শত্রুতা ইত্যাদি মন্দস্বভাব নিজের মাঝে থাকতে পারবে না। ভাল স্বভাব নিজের মধ্যে তৈরী করতে হবে। যেমন বিনয়, তাওয়াক্কুল, শোকর ও ছবর ইত্যাদি ভাল স্বভাব নিজের মাঝে আনতে হবে।

উপরোক্ত পাঁচটি দিকের উপর যখন মানুষ যথাযথ আমল করে তখন তার দ্বীন পূর্ণ হয়। তখন সে ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে পূর্ণ মুসলমান হয়। প্রত্যেকেই দ্বীনের এ পাঁচটি দিক সামনে রেখে স্বীয় জীবনের হিসাব নেই। যেমন আমার আকীদা ঠিক আছে কিনা? আমার জিম্মায় পাঁচ ওয়াক্ত নামায জামাতের সাথে পড়া জরুরি, আমি এর কতটুকু আদায় করছি আর কতটুকু ছেড়ে দিয়েছি। আমার আমদানী হালালভাবে হচ্ছে না হারাম উপায়ে হচ্ছে? বাজারে যখন আমি কাজ কারবার করি তখন আমার কারবার দুরস্ত হয় কিনা? আমার আখলাক ঠিক আছে কিনা? অন্যের সাথে আমার ব্যবহার ঠিক আছে কিনা? আমি মিথ্যা বলি কিনা? আমি কারও গীবত করি কিনা? আমি অন্যের অন্তরে কষ্ট দেয় কিনা? আমি অন্যকে পেরেশান করি কিনা? এসব কাজের আমি হিসাব করবো। যদি কোথাও খারাবী থাকে তাহলে তা দূর করার চেষ্টা করব। যদি একেবারে না ছাড়তে না পারি তাহলে অন্ততপক্ষে কমাতে চেষ্টা করব। যেমন আমি দৈনিক কতবার মিথ্যা বলি। এখন আমি চিন্তা করবো আজ থেকেই আমি কতবার মিথ্যা বলা ছাড়তে পারি, তৎক্ষণাৎ তা ছেড়ে দিব। মজলিসে বসে আমি কতবার অন্যের গীবত করি এটা কতটুকু পর্যন্ত, এখনি যদি ছাড়তে পারি তা ছেড়ে দিব। এমনিভাবে হিসাব নিয়ে আজ থেকে গুনাহ ছাড়তে শুরু করুন এবং নিজের ইসলাহের ফিকির অন্তরে সৃষ্টি করুন। যদি একবার সংশোধনের চিন্তার আলো তোমার অন্তরে জ্বলে ওঠে তাহলে ইনশাআল্লাহ আল্লাহ তা'আলা এ আলো তোমার জীবনকে আলোকিত করে ছাড়বে। আল্লাহ আমাদেরকে সকলকে নিজ আমলের হিসাব নিয়ে নিজেকে সংশোধন করার সুযোগ করে দিন। আমীন! আমীন!!

Monday, July 25, 2011

আমাদের আকীদা কেমন হওয়া উচিত

একজন মুসলমানের আকীদা কেমন হওয়া উচিত

কোন বিষয়ে অন্তরে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস স্থাপন করাকে ঈমান বা আকীদা বলা হয়। একজন মুসলমানের ঈমানের সাথে সম্পৃক্ত সমূদয় বিষয়ের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপনের ধরনের ওপরই তার মুসলমানিত্বের আবস্থা নির্ভর করে। প্রকৃত মুমিন হতে হলে, আকীদা বিশুদ্ধ হওয়া অপরিহার্য। বিশুদ্ধ আকীদা ব্যতিরেকে প্রকৃত মুমিন হওয়া তথা ঈমানের পূর্ণতা লাভ করা সম্ভব নয়।

সাধারন মুসলমান যাতে ঈমানের বিষয়গুলো জেনে নিজ আকীদা বিশুদ্ধ ও দুরস্ত করতে পারেন, তাই আকীদা সম্পর্কিত মূল বিষয়গুলো অতি সংক্ষিপ্তাকারে নিম্নে পেশ করছি-

১। আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত অন্য সমুদয় দৃশ্যমান ও অদৃশ্য বস্তু সমূহ আল্লাহ পাকেরই সৃষ্টি। প্রথমে এসব বস্তুর কোনটিরই অস্তিত্ব ছিল না। আল্লাহ তা'আলা এগুলো সৃষ্টি করার মাধ্যমে এগুলোর অস্তিত্ব এসেছে।

২। আল্লাহ তা'আল এক ও অদ্বিতীয়। তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন। তিনি কারো জনক নন এবং তাঁরও কোন জনক নেই। আল্লাহ পাকের তুল্য কিছু নেই। তিনি সর্বদাই সর্বত্র বিরাজমান। তিনি পূর্বেও বর্তমান ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও বর্তমান থাকবেন। অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যত সবই তাঁর নিকট সমান; তিনি সর্ববিষয়েই সম্যক অবগত। তিনি সবকিছু দেখেন, সবকিছু শোনেন এবং সবকিছু জানেন। তাঁর জ্ঞানের বাইরে কিছুই নেই। তিনি সব রকমের দোষ-ত্রুটি থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত এবং অতিপবিত্র। তিনিই একমাত্র মাবূদ; বান্দার বন্দেগী পাওয়ার তিনিই একমাত্র অধিকারী। তিনি সর্বশ্রেষ্ট। তিনিই সৃষ্টিকুলের রিযিক ও আহার দান করেন। তিনিই বান্দার গুনাহ মাফ করেন। তিনিই জীবনদাতা ও মৃত্যুদাতা। তাঁর নিদ্রাও নেই, তন্দ্রাও নেই। এ বিশ্বজাহানের একমাত্র তিনিই সৃষ্টিকর্তা, রক্ষাকর্তা, ত্রাণকর্তা, পালনকর্তা, বিধানদাতা ও একচ্ছত্র প্রকৃত মালিক। শেষ বিচারের দিনেরও তিনিই অধিপতি।

৩। আল্লাহ তা'আলার গুনবাচক অনেক নাম রয়েছে। তাঁর যাবতীয় গুণ পরিপূর্ণ ও চিরশ্বাশত।

৪। দুনিয়ায় ভাল ও মন্দ যা কিছু ঘটে, সবই আল্লাহ তা'আলার হুকুমেই ঘটে। আর তিনি এসব পূর্ব থেকেই অবগত।

৫। আল্লাহ তা'আলা মানুষ ও জ্বিন জাতিকে ভাল-মন্দ বোঝার উপযুক্ত বিবেক দান করেছেন এবং ইচ্ছামতো কর্ম করার শক্তি দান করেছেন। বান্দার ভাল কাজে আল্লাহ পাক সন্তুষ্ট হন এবং বান্দার গুনাহের কাজে তিনি নারাজ ও অসন্তুষ্ট হন।

৬। আল্লাহ পাক মানুষকে তাদের শক্তির বাইরে কোন কাজ করার আদেশ প্রদান করেননি। সুতরাং আল্লাহ তা'আলা ইসলামী শরীয়াতের মাধ্যমে যত আদেশ ও নিষেধমূলক হুকুম করাছেন, সেই সবই নিঃসন্দেহে মানুষের সাধ্যগত।

৭। আল্লাহ পাকের ওপর কোন কিছুই জরুরি অর্থাৎ ওয়াজিব নয়। তিনি বান্দার জন্য কল্যানমূলক যা-ই করেন, তা শুধু তাঁর দয়া বা অনুগ্রহ মাত্র।

৮। আল্লাহ তা'আলা মানুষ ও জ্বিন জাতিকে দ্বীনের সুপথ ও সৎপথ প্রদর্শনের জন্য একের পর এক অগণিত নবী রাসুল দুনিয়ায় প্রেরন করেছেন। তাঁরা সবাই নিষ্পাপ ছিলেন। তাদের প্রকৃত সংখ্যা আল্লাহ তা'আলাই জানেন।

প্রেরিত নবী-রাসুল গনের মধ্যে সর্বপ্রথম হলেন হযরত আদম (আঃ) এবং সর্বশেষ হলেন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তিনিই শেষ নবী। তাঁর পরে আর কোন নবী দুনিয়ায় আগমন করবেন না।

৯। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বপ্নে নয়, বরং বাস্তবে সশরীরে আল্লাহ পাকের অনুগ্রহে প্রথমে মক্কা শরীফ থেকে বাইতুল মুকাদ্দাস এবং সেখেন থেকে সাত আসমান ও আরশ মু'আল্লায় পরিভ্রমণ করেছেন। একে ইসলামী পরিভাষায় ইসরা ও মিরাজ বলা হয়।

১০। আল্লাহ তা'আলা নূর দ্বারা ফেরেশতাকুল সৃষ্টি করেছেন। তাঁরা আমাদের অদৃশ্য। তাঁরা আল্লাহ পাকের আজ্ঞাবহ। তাদের সংখ্যা অগনিত। ফেরেশতাগনের মধ্যে চারজন প্রধান, তাঁরা হলেন-(ক) হযরত জিবরাইল (আঃ), (খ) হযরত মিকাঈল (আঃ) (গ) হযরত ইসরাফীল (আঃ) এবং (ঘ) হযরত আজরাইল (আঃ)।

১১। আমাদের দৃষ্টির বাইরে আল্লাহ পাকের সৃষ্ট আরেক জাতি হচ্ছে জ্বিন জাতি। তাদের মধ্যেও মানুষের মতই ভাল বা মন্দ অর্থাৎ নেককার ও বদকার উভয়রকম বিদ্যমান। বদকারদের মধ্যে ইবলীস শয়তান অন্যতম।

১২। আল্লাহ পাকের প্রিয় বান্দাগনকে ওলী বলা হয়। তাদের কারামত(আলৌকিক কার্যাবলী) সত্য। তবে ওলী হওয়ার জন্য কারামত প্রকাশ পাওয়া জরুরি নয়। বরং দ্বীনের ওপর পরিপূর্ণ পাবন্দীই ওলী হওয়ার প্রমাণ।

ওলী কখনো নবীর সমান হতে পারেন না। তেমনিভাবে যিনি নবীজির সাহাবী নন, তিনি যিত বড় ওলীই হোন না কেন, তিনি কখনো কোন সাধারণ সাহাবীরও সমতুল্য হতে পারেন না।

১৩। শরীয়তের খেলাফকারী ব্যক্তি কখনোই ওলী হতে পারে না।

১৪। যুগে যুগে আল্লাহ তা'আলা ছোট বড় অনেকগুলো আসমানী কিতাব নাযিল করেছেন। তন্মধ্যে চারখানা আসমানী কিতাব শ্রেষ্ঠ। যথাঃ (ক) তাওরাতঃ হযরত মূসা (আঃ)-এর ওপর নাযিলকৃত। (খ) যাবুরঃ হযরত দাউদ (আঃ)-এর ওপর নাযিলকৃত। (গ) ইঞ্জিলঃ হযরত ঈসা (আঃ)-এর ওপর নাযিলকৃত এবং (ঘ) পবিত্র কুরআন মাজীদঃ হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর নাযিলকৃত।

১৫। রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর সাহাবীগন (রাঃ) আল্লাহ তা'আলার বিশেষ সন্তুষ্টিপ্রাপ্ত। তাঁরা হকের মাপকাঠি। অর্থাৎ তাদের অনুসরণ রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর অনুসরনের শামিল। কেননা তাদেরকে আল্লাহ তা'আলা রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর পূর্ণাজ্ঞ আনুগত্যকারীরুপে নির্বাচিত করেছেন এবং তাঁরা রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর পদাংজ্ঞ অনুসরন করে জীবন ধন্য করেছেন। তাই তাঁরা দুনিয়াতে থাকতেই মহান আল্লাহ কত্রৃক সন্তুষ্টির সুসংবাদ লাভ করেছেন।

১৬। রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর আহল বা পরিবারবর্গ তথা স্ত্রী, পুত্র ও কন্যা এবং তাঁদের মুবারক রক্তধারার সকলের প্রতি মহব্বত রাখা জরুরী।

১৭। আল্লাহ পাকের সমুদয় ঘোষনা (কুরআনের ইরশাদ) এবং রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর সকল কথা(হাদীসসমূহ) সত্য বলে বিশ্বাস করা অপরিহার্য ও ঈমানের অন্তর্ভুক্ত। এটা ব্যতিত ঈমান পূর্ণতা লাভ করতে পারে না।

১৮। পবিত্র কুরআন ও হাদীসের মনগড়া ব্যাখ্যা করা যাবে না। অর্থাৎ সুবিধামতো তাঁর অর্থ-ব্যাখ্যা প্রদান করা কিংবা বাড়িয়ে বা কমিয়ে বলা যাবে না। বরং রাসুলুল্লাহ (সাঃ)থেকে শিক্ষালাভ করে সাহাবায়ে কিরাম, তাবিয়ীন ও তাবেয়ীনগন (রহঃ) কুরআন ও হাদীসের যে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষন পেশ করেছেন, তা-ই গ্রহণ করতে হবে।

১৯। কোন ফরজ, ওয়াজিব বা সুন্নাত কিংবা মুস্তাহাবকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা যাবে না। তেমনিভাবে কোন গুনাহকে হালাল তথা বৈধ জ্ঞান করা যাবে না।

২০। আল্লাহ পাকের আযাবের ভয় থেকে আতংকমুক্ত হওয়া যাবে না এবং আল্লাহ পাকের রহমত থেকে নিরাশ হওয়া যাবে না।

২১। অদৃষ্টের কথা কাউকে জিজ্ঞেস করা এবং অদৃষ্টের ব্যাপারে কারো উক্তি বিশ্বাস করা যাবে না।

২২। অদৃষ্ট ও গাইবের খবর একমাত্র আল্লাহ পাকই অবগত রয়েছেন। তিনি ছাড়া অন্যকেউ গাইবের বিষয়ে অবগত নয়। আর আল্লাহ তা'আলার জানানো ছাড়া কোন সৃষ্টিজীবের পক্ষে গাইবের কোন বিষয় জানা সম্ভব নয়।

২৩। কেউ মৃত্যুবরণ করলে, তাকে দাফন করা হলে অথবা দাফন করা সম্ভব না হলেও উভয় অবস্থাতেই আল্লাহ পাকের দু'জন ফেরেশতা মুনকার ও নাকীর তার নিকট আগমন করেন এবং তাকে প্রশ্ন করেন, তোমার মাবূদ কে? তোমার দ্বীন(ধর্ম) কী? এবং রাসুলুল্লাহ (সাঃ) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন, ইনি কে? যদি মৃত ব্যক্তি ঈমানদার হয়, এবং সঠিক জবাব দেয়, তখন আল্লাহ পাকের দয়ায় তার জন্য জান্নাতের আরাম আয়েশের ব্যবস্থা করা হয়। পক্ষান্তরে মৃত ব্যক্তি ঈমানদার না হলে বা বদকার হলে, ফেরেশতাদ্বয়ের প্রশ্নের জবাবে সে বলে, "আমি জানি না, আমি জানি না"। তখন তাকে জাহান্নামের কঠিন শাস্তি দেয়া শুরু হয়-যা কিয়ামত পর্যন্ত বলবত থাকে।

২৪। আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কুরআনে এবং রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর পবিত্র হাদীসে কিয়ামতের যে সমস্ত আলামত বর্ণনা করেছেন, তা অবশ্যই ঘটবে। যেমন, হযরত ইমাম মাহদী (আঃ) দুনিয়ায় আগমন করবেন, হযরত ঈসা (আঃ) আসমান থেকে অবতরন করবেন, কানা দাজ্জালের আবির্ভাব ঘটবে এবং ঈসা (আঃ) দাজ্জালকে হত্যা করবেন, ইয়াজুজ-মাজুজ নামক এক জাতি দুনিয়ায় ছড়িয়া পড়বে, 'দাব্বাতুল আরয' নামক এক অদ্ভুত জীব আবির্ভূত হবে এবং মানুষের সাথে কথা বলবে, হঠাত একদিন সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদয় হয়ে আবার পশ্চিম দিকেই অস্ত যাবে এবং তখন তবার দরজা বন্ধ হয়ে যাবে, পবিত্র কুরআন মাজীদ উঠএ যাবে এবং সমস্ত ইমানদার লোকেরা প্রাণত্যাগ করবে; তখন শুধু কাফিররাই দুনিয়ায় বিদ্যমান থাকবে, আর সেই অবস্থায়ই কিয়ামত কায়েম হবে।

২৫। কিয়ামতের সকল আলামত প্রকাশ পাওয়ার পরেই হযরত ঈসরাফীল (আঃ) শিঙ্গায় ফুক দিবেন। তখন সমস্ত আসমান ও যমীন ফেটে টুকরো  টুকরো হয়ে যাবে এবং পাহাড়্গুলো তুলার মত উড়তে থাকবে। সেসময় বিদ্যমান যাবতীয় জীব মারা যাবে। সে সময় একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কেউ থাকবে না। এ অবস্থায় দীর্ঘদিন অতিবাহিত হবে।
অত;পর দ্বীতিয়বার সিঙ্গায় ফুক দেয়া হবে। তখন আলম জীবিত হয়ে উঠবে। পৃথিবীর শুরু থেকে শেষ পর্যন্তের সমস্ত মৃত লোক জীবিত হয়ে কিয়ামতের ময়দানে একত্রিত হবে।
তখন নেকী ও বদী পরিমাপের পাল্লা (মিযান) স্থাপন করা হবে এবং মানুষের কার্যসমূহ মাপা হবে। কেউ কেউ বিনা হিসেবে বেহেশতে গমনের অনুমতিপ্রাপ্ত হবেন। নেককারদের আমলনামা তাঁদের দান হাতে এবং বদকারদের আমলনামা তাঁদের বাম হাতে দেয়া হবে।
সেদিন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) স্বীয় উম্মতদেরকে হাউজে কাউসারের শরবত পান করাবেন।
সকলেই পুলসিরাত পার হতে হবে। নেককারগন পুলসিরাত পার হয়ে আল্লাহ পাকের দয়ায় জান্নাতে গমন করবেন এবং পাপীরা পুলসিরাতে উপর থেকে নীচে অবস্থিত জাহান্নামে পতিত হবে।

২৬। -----------------------চলবে। 

আমাদের দূরবস্থার কারণ

মুসলমানদের দূরবস্থার কারণ

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নতের ইত্তেবা করে, সুন্নতের উপর আমল করে, নবীজির নুরানী আদর্শ অনুসরণ করে, সাহাবায়ে কেরাম দুনিয়াতে সম্মানিত হয়েছেন। আমরা আজ নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নত ও আদর্শ ছেড়ে চরম অপমানিত ও লাঞ্চিত হয়েছি। আজ আমাদের মাঝে এ ভয় ঢুকে পড়েছে যে, আমরা যদি অমুক সুন্নতের উপর আমল করি তাহলে লোকে আমাদেরকে অসামাজিক বলবে। তারা আমাদেরকে নিয়ে হাসি তামাশা করবে। ইংল্যান্ড, রাশিয়া, আমেরিকা আমাদেরকে নিয়ে টিটকারী করবে, হাসি তামাশা করবে। যার ফলকথা হলো আজ আমরা পৃথিবীতে অপমানিত হচ্ছি। নতুবা আজ বিশ্বের এক তৃতীয়াংশ মানুষ মুসলমান, বর্তমান বিশ্বে যা মুসলমান আছে পূর্বে এত সংখ্যক মুসলমান কখনও ছিল না। আজ মুসলমানদের কাছে যত সামান ও সামগ্রী আছে এমন সামগ্রী অতীতে ছিল না। কিন্তু রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলে গিয়েছেন, ভবিশ্যতে এমন এক জমানা আসবে যখন তোমাদের সংখ্যা অনেক বেশি হবে, কিন্তু তোমরা তখন এমন হবে যেন স্রোতে ভাসমান আবর্জনা যার নিজস্ব কোন ক্ষমতা নেই। আক আমাদের অবস্থাও এমন। আমরা আজ শত্রুদের খুশী করার জন্যে নিজেদের সবকিছু বিসর্জন দিয়েছি। নিজেদের আদর্শ ছেড়ে দিয়েছি। মাথা থেকে পা পর্যন্ত বিজাতীয় অনুকরণ করে শত্রুদেরকে এ প্রমাণ দিয়েছি যে, আমরা তোমাদের একান্ত অনুগত গোলাম। কিন্তু তারপরও প্রভুরা আমাদের ওপর খুশী নন। প্রতিদিন আমাদের মারছে। কখনও ইসরাঈল মারছে কখনও মারছে আমেরিকা আবার কখনও মারছে রাশিয়া। কখনও বসনিয়ার মুসলমানদের উপর জুলুম-নিরযাতন করা হচ্ছে। কখনও কাশ্মীরে মুসলমানেরা জুলুম অত্যাচার সহ্য করছে। হিন্দুস্তানের মুসলমান কাফের ও হিন্দুদের নির্যাতনের শিকার। প্রকৃত কথা হলো, মুসলমান যখন নবীজির সুন্নত বা আদর্শ ছেড়ে দিবে তখন তাদেরকে বিজাতির মার খাওয়া ছাড়া কোন গত্যন্ত্র থাকবে না। তাদেরকে পদে পদে লাঞ্চিত ও অপমানিত হতেই হবে। সুতরাং আমাদেরকে ইসলামী চেতনায় জেগে ওঠতে হবে, নিজস্ব স্বাতন্ত্রবজায় রাখার জন্য মরিয়া হয়ে উঠতে হবে জীবনযুদ্ধে।

Sunday, July 24, 2011

পর্দার নারী বাজারে কেন?

পর্দার নারী বাজারে কেন?

বর্তমান সমাজ হচ্ছে সভ্য ও শিক্ষিত সমাজ। অথচ কাজ-কর্মে দৃষ্টি দিলে দেখা যায় তারা যেন আদিকালের দিকে ফিরে যেতে চলেছে। আদিকালের মানুষ উলঙ্গ থাকত। কারণ হলো তারা কাপড় তৈরী করতে জানত না কিন্তু বর্তমানে তো কাপড়ের অভাব নেই। প্রচুর কাপড় উৎপাদিত হচ্ছে। তবুও আজ কেন এই উলঙ্গপনা?

নারীদের পোশাক দেখলে মনে হয় না যে, তারা নারী। নারী যেন পোশাকে পুরুষ থেকেও খোলা হয়ে যাচ্ছে। বর্তমান সমাজে দেখা যায়, নারী প্যান্ট, শার্ট, পাতলা কাপড়, ছোট পোশাক ইত্যাদি পরিধান করছে, চুলগুলি পুরুষের চাইতে ছোট করে রাখছে, কালারিং করছে। অপরদিকে পুরুষেরা নারী জাতির মত পোশাক পরে চুল রেখে নারী হতে চলেছে। হাদীছ শরীফে হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেন- "রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই পুরুষের প্রতি অভিসম্পাত করেছেন, যে নারীর মত পোশাক পড়ে"। অপর এক হাদীছে হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- "মহিলারা হল পর্দায় থাকার মানুষ কিন্তু তারা যখন পর্দা উপেক্ষা করে বাহিরে আসে, তখন শয়তান তাদের প্রতি উকি মারে"।

আজ ভাবতে অবাক লাগে, কত দ্রুত বাংলাদেশের নারীরা পর্দাকে বিসর্জন দিয়ে প্রগতিশীলা হয়ে উঠেছে। ওড়না এখন প্রায় আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবার পথে। আর যদিও বা পরা হয়, তার পরিধান পদ্ধতি উল্টো হয়ে গেছে- গলায় ঝুলিয়ে পাট দুটো পিঠের উপর ছড়িয়ে দেয়া এবং এর মাধ্যমে বক্ষকে বে আব্রু করা। সত্যিই অভিনব ফ্যাশন এবং নিত্য নতুন স্টাইলে আধুনিক পদ্ধতি। বেহায়পনার মধ্যে আরো রয়েছে- পাতলা কাপড়ের আটসাট সালোয়ার কামিজ, টাইট জিন্সের প্যান্ট, হাতাকাটা গেঞ্জী, অতি পাতলা কাপড়ের ব্লাউজ, বুকের কাছে ভি-কাট, ইউ-কাট সম্বলিত ব্লাউজ, পিঠের কাছে ছড়ানো ইউ-কাট সম্বলিত বাউজ, দৈর্ঘে ছোট করে উদর প্রদর্শন অর্থাৎ ব্লাউজ ও ব্রা-র সাইজ একাকার করে ফেলা, পেটিকোটের সম্মুখভাগ নাভির নিচে নামিয়ে আনা ইত্যাদি।

প্রিয়নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, "ঐ ব্যক্তির উপর আল্লাহ তা'আলার লানত হোক, যে কোন মহিলাকে ইচ্ছাকৃতভাবে দেখে। এমনিভাবে ঐ মহিলার উপরও আল্লাহর তা'আলার লানত হোক যে নিজেকে দেখায়"।

ভাবতেও অবাক লাগে আজ নারীরা সেজেগুজে রূপসী সেজে বয়ফ্রেন্ডদের হাত ধরে লেকে, পার্কে, সিনেমায়, বারে, চিড়িয়াখানায়, জাদুঘরে প্রভৃতি স্থানে ঘুরে বেড়াতে না পারলে জীবনটাকে বৃথা মনে করে। আর বন্ধুরাও ভ্রমরের ন্যায় উড়ে উড়ে মধুপান করে। অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে পুরুষদেরও আজকাল বিবাহটা একটা ব্যবসায়ে পরিণত হয়েছে। যৌতুক মনের মত না হলে ছেলেরা বিবাহ করতে রাজী হয় না। কারণ জৈবিক চাহিদা তো বিবাহ ব্যতীতই মিটাতে পারছে। তাই বিনা লাভে কেন ঝুকি মাথায় নিতে যাবে। বিবাহের পরেও তারা নিজের বিবাহিতা স্ত্রীকে বেগানা পুরুষের সাথে যেতে বারণ করে না। যেহেতু তারা যেভাবে ফুলে ফুলে উড়ে ভ্রমরের ন্যায় মধুপান তথা নারীর সুধা পান করে স্ত্রী ও তেমনি ভাবে পরপুরুষের সুধা পান করুক।

মহিলাদের সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কোরআনে বলেন, "ইমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হিফাযত করে। তারা যেন যা সাধারনত প্রকাশমান তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে এবং তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বক্ষদেশে ফেলে রাখে এবং তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুষ্পুত্র, ভগ্নীপুত্র, স্ত্রীলোক অধিকারভোক্ত দাসী, যৌনকামনা মুক্ত পুরুষ ও বালক- যারা নারীদের গোপন সম্পর্কে অঙ্গ, তাদের ব্যতিত কারও কাছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না কর। তারা যেন তাদের গোপন সাজসজ্জা প্রকাশ করার জন্য জোরে পদচারনা না করে। মু'মিনগন, তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তাওবাহ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও"। (সূরা নূরঃ ৩১)

বর্তমান বিশ্বের মানুষ শান্তির অন্বেষায় নিত্য নতুন আইন প্রণয়ন করে অগনিত অর্থ ব্যয় করছে। কিন্তু যে উৎস থেকে ফিতনা ফাসাদ ছড়াচ্ছে, সেটা বন্ধ করার কেউ নেই। আজ যদি ফিতনা ফাসাদের মূল কারন উদঘাটন করার জন্য নিরপেক্ষ কোন তদন্ত পরিচালনা করা হয়, শতকরা ৫০ ভাগেরও বেশী সামাজিক অশান্তির কারণ নারী জাতির বেপরোয়া চালচলন।


 

ইভটিজিং

আমার প্রিয় মা ও বোনেরা

ইসলাম ধর্ম আপনাদের ইজ্জত রক্ষার্থে ব্যস্ত, আর আপনি সেই পাশ্চাত্যের বস্তাপচা সংস্কৃতি ও চালচলনকে মুক্তি ও উন্নতির সোপান মনে করে বসে আছেন? পশ্চিমে গিয়ে তো সূর্যও অন্ধকার হয়ে যায়, আলো হারিয়ে ফেলে, আপনারা পাশ্চাত্যের পিছনে কোন আলো তালাশ করছেন? একি রীতিমত বোকামী নয়? সর্বপ্রকার স্বাধীনতা ও অধিকারই নারীজাতিকে ইসলামে প্রদান করা হয়েছে।

কুরআনুল কারীমে নারী জাতির মর্যাদার স্বীকৃতিস্বরূপ 'সূরা নিসা' অবতীর্ণ করা হয়েছে। অথচ পুরুষদের নামে পৃথক কোন সূরা অবতীর্ণ করা হয়নি।আল্লাহর নবী মুহাম্মদ মোস্তফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোষনা দিয়েছেন, মায়ের পদতলে সন্তানের জান্নাত। স্ত্রীরা স্বামীর পরিচ্ছদ। কন্যা সন্তান লালন পালন করলে জান্নাতের ওয়াদা।

আজকে আমাদের মহিলাদের বেপরদাহীন ভাবে চলাফেরার কারণে তারা ইভটিজিং এর শিকার হচ্ছে।

আধা কেজি পাকা তেঁতুলকে লবন ও পোড়া মরিচ দিয়ে ভালভাবে মাখিয়ে যদি জিহ্বার সামনে আনা হয়, অতঃপর জিহ্বাকে যদি বলা হয়, জিহ্বা! ও জিহ্বা!! এখন যদি লালা আনো, তাহলে কঠোর শাস্তি দেয়া হবে। জিহ্বার পক্ষে এ আইন মানা অসম্ভব। প্রমাণ নিন, এই যে তেঁতুল মাখানোর কথা বললাম, এ কথা শুনতেই কার না জিহ্বায় পানি আসবে!

তেমনি মেয়েরা বেপর্দাভাবে সেজেগুজে যুবকদের সামনে দিয়ে বিভিন্ন ঢঙ্গে হেটে যাবে আর যুবকদের ইভটিজিং না করার জন্য শাসানো হবে- তা কেমনে হয়। তাই চিকিৎসা করতে হলে, প্রথমে রোগের উৎসমূল নির্মূল করতে হবে। তা না হলে সুফল পাওয়া যাবে না।

  • ইসলাম বিদ্বেষীরা ভালভাবেই জানে, মুসলিম জাতিকে ধংস করতে হলে, নারীকে ধর থেকে বের করতে হবে। পর্দা প্রথাকে উচ্ছেদ করে এবং নারীর রূপ সৌন্দর্য উন্মুক্ত করেই যুব সমাজকে ধ্বংস করা সম্ভব। তারা তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী অনেকদূর এগিয়ে গেছে। তাদের সফলতা ও আমাদের দুর্ভাগ্য রুপে ইভটিজিং আত্নপ্রকাশ করেছে। হযরত মুসা (আঃ) এর যুগে বাল'আম ইবনে বা'উরার কুপরামর্শে একটি মাত্র যিনার অপরাধে ৭০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। আমরা কি এ থেকে শিক্ষা নিতে পারি না?
  • পর্দা আল্লাহ প্রদত্ত একটি ফরজ বিধান। বর্তমান সমাজে এ বিধানকে ব্রীদ্ধাংলী দেখিয়ে মেয়েরা অর্ধনগ্ন হয়ে রাস্তায় নেমে পড়েছে। ফলে ইভটিজিং এর মত অভিশাপ জাতির ঘাড়ে চেপে বসেছে।

    এক্ষেত্রে বলতে হয়, খাবারকে ঢাকনাবিহীন রাখা যেমন খাবারে মাছি বসার অন্যতম কারণ, তেমনি মেয়েদের পর্দা না করাই ইভটিজিং এর অন্যতম কারণ।

  • মেয়েদের সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পুরুষের নিকট লোভনীয়। তাই তারা যদি শালীন ও মার্জিত পোশাক ছেড়ে আধুনিকতার নামে অশালীন ও অমার্জিত পোশাক পরে পন্যের মতো অমূল্য সৌন্দর্যকে প্রকাশের জন্য দেহ প্রদর্শন করে, তাহলে বদলোকের যৌন লালসায় পড়ে ইভটিজিং্যের শিকার হবেই।

    পুরুষরা পেট-পিঠ বের করে বাইরে কিংবা অফিস আদালতে যাচ্ছেন না লজ্জা করে। কিন্তু আজ মেয়েদের সেই লজ্জাটুকুও নেই। তাই তারা বখাটেদের কুনজরে পড়ে।

কোন কাজে কী বলতে হয়

কোন কাজে কী বলতে হয়

  • কাজের শুরুতে-বিসমিল্লাহ
  • খাওয়ার শুরুতে-বিসমল্লাহি ওয়া আলা বারাজাতিল্লাহ।
  • কাজের ইচ্ছা ব্যক্ত করতে-ইনশাল্লাহ।
  • কাজের গুরুত্ব প্রকাশে-সুবহানাল্লাহ।
  • কৃতজ্ঞতা প্রকাশে- আলহামদুলিল্লাহ
  • প্রশংসায় বা মূল্যায়নে- মাশাআল্লাহ।
  • বিপদাপদে- ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
  • ধন্যবাদ জ্ঞাপনে- জাযাকাল্লাহ।
  • হাঁচি দেয়ার পরে- আলহামদুলিল্লাহ।
  • হাঁচির দু'আর জবাবে- ইয়ারহামুকাল্লাহ।
  • গুনাহ মাফের জন্য- আস্তাগফিরুল্লাহ।
  • দানের বেলায়- ফী সাবিলিল্লাহ।
  • বিদায় বেলায়- ফী আমানিল্লাহ।
  • উপরে উঠার সময়- আল্লাহু আকবর