Monday, January 9, 2012

ইমাম শাফেয়ী (রহঃ)-এর চারটি অমূল্য বাণী

ইমাম শাফেয়ী (রহঃ)-এর চারটি অমূল্য বাণী

১। চারটি বস্তু দ্বারা শরীর বেশ পরিপুষ্ট হয়ঃ (ক) গোশত, (খ) সুগন্ধি, (গ) প্রতিদিন গোসল করা এবং (ঘ) সুতির কাপড় পরিধান করা।
২। চারটি বস্তু দ্বারা দৃষ্টিশক্তি বেশ তীক্ষ্ণ হয়ঃ (ক) কাবা শরীফ দর্শন করা, (খ) শোয়ার পূর্বে সুরমা ব্যবহার করা, (গ) গাঢ় সবুজ গাছপালার দিকে দৃষ্টিপাত করা এবং (ঘ) পরিষ্কার জায়গায় বসা।
৩। চারটি অভ্যাস দ্বারা বেশ বুদ্ধি বাড়েঃ (ক) নিরর্থক বাক্যালাপ পরিত্যাগ করা, (খ) নিয়মিত মিসওয়াক করা, (গ) নেক মানুষের সংসর্গে থাকা এবং (ঘ) আলেমগনের সাথে ওঠাবসা করা।
৪। চারটি অভ্যাস দ্বারা রিজিক বৃদ্ধি পায়ঃ (ক) নিয়মিত তাহাজ্জুদ নামায পড়া, (খ) বেশী করে তাওবা-ইস্তিগফার করতে থাকা, (গ) বেশী বেশী সদকা করা এবং (ঘ) বেশী বেশী জিকির করা।



Saturday, January 7, 2012

জাহান্নামে প্রবেশের পর জাহান্নামীদের অবস্থা


জাহান্নামে প্রবেশের পর জাহান্নামীদের অবস্থা

আল্লাহ তায়ালা ফরমান-
“অতঃপর, হে পথভ্রষ্ট মিথ্যাবাদীবৃন্দ কণ্টকময় বৃক্ষফল হবে তোমাদের খাদ্য। এর দ্বারা তোমাদের উদরপূর্তি করতে হবে। আর ফুটন্ত গরম পানি পান করতে হবে। (সূরা ওয়াকিয়াঃ৫১-৫৫)
আরেক আয়াতে আল্লাহ তায়ালা ফরমান-
“আমি পাপিদেরকে পিপাসার্ত অবস্থায় জাহান্নামে নিক্ষেপ করব”। (সূরা মারইয়ামঃ৮৬)
হযরত ইমরান বলেন- আমরা জানতে পেরেছি যে, কবর থেকে জাহান্নামীদের পিপাসার্ত অবস্থায় উঠানো হবে। আর কিয়ামতের মাঠেও জাহান্নামীরা তৃষ্ণার্ত অবস্থায় দন্ডায়মান থাকবে। উক্ত আয়াতের তাফসীরে হযরত মুজাহিদ বলেন যে, পিপাসার তীব্রতার কারণে জাহান্নামীদের ঘাড় বাঁকা হয়ে যাবে। আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরমান- ইহুদী নাসারাগনকে জিজ্ঞাসা করা হবে তোমরা কি চাও? তারা বলবে- হে আল্লাহ আমরা তৃষ্ণার্ত আমাদেরকে পানি দিন। তখন তাদের প্রতি ইঙ্গিত হবে তোমরা সামনের দিকে হাটছনা কেন? অতঃপর তারা জাহান্নামের দিকে যেতে থাকবে। তখন তারা দূত থেকে পানির মত দেখতে থাকবে,  তখন তারা একে অপরের সাথে গল্প করতে করতে যেতে থাকবে। এমতাবস্থায় তারা জাহান্নামে পতিত হবে।
হযরত হাসান বসরী (রহঃ) থেকে মুহাদ্দিস হযরত আইয়ুব (রহঃ) বর্ণনা করেন যে, মনে রেখো কিয়ামতের মাঠে ৫০ হাজার বছর এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। তখন এক লোকমা খাদ্য, এক ঢোক পানিও পাবে না। পানির পিপাসায় ঘাড় বাঁকা হয়ে যাবে। ক্ষুধায় পেট পুড়ে যাবে। অতঃপর এ অবস্থায়ই জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। অথবা ফুটন্ত গরম পানি পান করতে দেয়া হবে। এ পানির গরমের তীব্রতায় পেটের নাড়ীভুড়ি বেরিয়ে যাবে।
হযরত কা’ব বলেন, কিয়ামতের দিন আল্লাহ পাক যার উপর ক্রোধান্বিত হবেন তাকে গ্রেফতারের নির্দেশ দিবেন। তখন এক লক্ষ বা আরো অধিক ফেরেশতা তাকে গ্রেফতার করবে। তার মাথা ও পা একত্রিত করা হবে। তারপর অধঃমুখ করে তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।
হযরত কাব বলেন, ফেরেশতাদের ক্রোধের চাইতে আগুনের ক্রোধ ৭০ গুন বেশী হবে। তারপর হযরত কাব বলেন, অপরাধীরা এক মুহূর্তের জন্য একটু পানি চাইবে। তখন তাদেরকে পানি দেয়া হবে বটে কিন্তু পানির ভীষণ উত্তাপে মুখের গোশত গলে পুড়ে যাবে। তারপর তাদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।

ব্যভিচারিণী মহিলাদের যৌনাঙ্গের দুর্গন্ধ থেকে জাহান্নামীদের নিরাপত্তা কামনা


ব্যভিচারিণী মহিলাদের যৌনাঙ্গের দুর্গন্ধ থেকে জাহান্নামীদের নিরাপত্তা কামনা

জাহান্নামীদের মধ্যে কোন কোন জাহান্নামী এমনও হবে যে, অন্যান্য জাহান্নামীরা তার থেকে নিরাপত্তা কামনা করবে। এই নিরাপত্তা কামনা তাদের দুর্গন্ধের কারণে অথবা অন্য কোন কারণে হয়ে থাকে।
হযরত বুরাইদা (রাঃ) নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ ফরমান- ব্যভিচারীদের যৌনাঙ্গের দুর্গন্ধ জাহান্নামীদিগকে মারাত্বক কষ্ট দিবে।

Friday, January 6, 2012

টাকনুর নীচে কাপড় পরিধানকারীর শাস্তি


টাকনুর নীচে কাপড় পরিধানকারীর শাস্তি

যে পাজামা টাকনুর নীচে চলে যাবে তা জাহান্নামে যাবে। কিয়ামতের দিন আল্লাহ পাক টাকনুর নীচে লুঙ্গি পরিধানকারীর প্রতি ফিরেও তাকাবেন না এবং তাকে কঠিন শাস্তি দিবেন। (আবু দাউদ)
নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে স্বর্ণের আংটি পরিহিত অবস্থাইয় দেখে তার হাত থেকে আংটিটি খুলে দূরে নিক্ষেপ করে দিলেন এবং বললেন তোমাদের অনেকেই আগুনের ফুলকি হাতে পরিধান করে। (মুসলিম)
উল্লেখ্য যে, পুরুষের জন্য স্বর্ণ ব্যবহার করা হারাম চাই তা যে পরিমাণই হউক না কেন। যে ব্যক্তি স্বর্ণ-রৌপ্যের পাত্রে পানাহার করে সে যেন তার পেটে আগুন ভর্তি করে।
নাম-যশ প্রচারের জন্য যে ব্যক্তি কাপড় পরিধান করবে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা তাকে সে ধরনের পোষাকই পরিধান করাবেন তবে সে পোষাকে থাকবে আগুন।

Monday, January 2, 2012

নোয়াখালীতে লাশ দেখতে গিয়ে একই পরিবারের ৬ জন লাশ হয়ে ফিরলেন

নোয়াখালীতে লাশ দেখতে গিয়ে একই পরিবারের ৬ জন লাশ হয়ে ফিরলেন

 বিঃদ্রঃ এই খবরটি দৈনিক আমারদেশ (০২/০১/২০১২) থেকে নেয়া হয়েছে।

আমরা এই দিনে নতুন বছর উদযাপন নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। আর এই ৬ জন তাদের আসল ঠিকানায় চলে গেল। আমরা কি জানি তাদের সাথে আল্লাহ এবং তাঁর  ফেরেছতারা কি ব্যবহার করেছে? একদিন তো আমাদের কেও চলে যেতে হবে তাদের মত। কবরে গেলে কি আমাদের কে জিজ্ঞেস করা হবে আমরা ২০১২ সালের ১লা জানুয়ারি কেমন আনন্দ ফুর্তি করে ছিলাম। সময় থাকতে আসুন না পাশ্চাত্যের সংস্কৃতির সাথে তাল না মিলিয়ে আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসুলের পথ অনুসরণ করি।


মামার জানাজায় অংশ নিতে গিয়ে পরিবারের ৬ সদস্যসহ লাশ হয়ে ফিরলেন ঢাকার উত্তরার ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান। নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় তিনি এক ছেলে ও এক মেয়েসহ নিহত হন। এ সময় মারা যান পরিবারের আরও ৪ সদস্য। এ ঘটনা ছাড়াও পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে ঢাকার মগবাজার এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় মারা গেছেন এক মহিলা। আমার দেশ-এর প্রতিনিধিদের পাঠানো বিস্তারিত খবর :
মগবাজারে ট্রেনের ধাক্কায় অজ্ঞাত মহিলার মৃত্যু : স্টাফ রিপোর্টার জানান, রাজধানীর মগবাজার ওয়ারলেসগেট সংলগ্ন রেললাইনে ট্রেনের ধাক্কায় অজ্ঞাত এক মহিলার (৩৫) মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সকালে রেললাইন দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সকাল ১১টায় ওই মহিলা রেললাইন দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। এসময় কমলাপুর থেকে বিমানবন্দরগামী একতা এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় পড়ে যান তিনি।
ট্রেনের ধাক্কায় ছিটকে পড়ে মাথা থেঁতলে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার।
খবর পেয়ে জিআরপি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায়। জিআরপি থানার এএসআই আলমগীর হোসেন বলেন, নিহত মহিলার পরনে ছিল সবুজ রঙের স্কার্ট। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে।
জানাজায় অংশ নিতে গিয়ে নিহত ৭ : মামার জানাজায় অংশ নিতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় সপরিবারে লাশ হয়ে ফিরলেন ঢাকার উত্তরার ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান (৫০)। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল সকালে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীর নাওতালা এলাকায়। এ সময় ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান ও তার পরিবারকে বহনকারী প্রাইভেটকারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে পুকুরে পড়ে গেলে তিনি এবং পরিবারের অপর ৬ সদস্য নিহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা থেকে রাতে যাত্রা করে ঢাকা-নোয়াখালী মহাসড়কের নাওতলা এলাকায় মুন্সীবাড়ির পুকুরে ভোর ৫টায় প্রাইভেটকারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে যায়। এ ঘটনায় নিহতরা হলেন ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান (৫০), তার ছেলে শাহাদাত হোসেন (৮), মেয়ে শ্রাবণী (১৩), আত্মীয় সোহাগী (৩০), মিলি (২২), জ্যোতি (৩) ও প্রাইভেটকার চালক মোস্তাক আহমেদ (৩৫)।
নিহতদের পরিবারিক ও পুলিশ সূত্র জানায়, ঢাকার উত্তরার ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান নোয়াখালীর সদর উপজেলার দত্তেরহাটে গ্রামের বাড়িতে মামার জানাজায় অংশ নিতে যাচ্ছিলেন। শনিবার রাতে তিনি প্রাইভেটকারে রওনা হন। ভোর ৫টায় সোনাইমুড়ীর পৌর এলাকার নাওতলার আনা মিয়া মুন্সীবাড়ির সামনে পৌঁছানর পর ড্রাইভার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং প্রাইভেটকারটি পুকুরে পড়ে যায়। এ সময় কারের দরজা-জানালা বন্ধ থাকায় ভেতরের সবাই দম বন্ধ হয়ে মারা যান।
সোনাইমুড়ী থানার এসআই শফিক জানান, মুসল্লিরা নামাজ পড়তে বের হয়ে প্রাইভেটকারটি পুকুরে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে লাশ ও গাড়িটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

থার্টিফার্স্টে বাইরে যেতে না দেওয়ায় তরুণীর আত্মহত্র্যা


ডেসটিনি রিপোট
রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় তানিয়া আক্তার নিলা (১৮) নামের এক তরুণী আত্মহত্যা করেছেন। গতকাল রোববার সকাল ৯টার দিকে তেজকুনিপাড়ার ২৫০ নম্বর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, নিলা নবম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে। এরপর একটি এনজিওতে কাজ করে। গত শনিবার থার্টিফার্স্ট নাইটে ঘুরতে বাইরে বের হতে চাইলে তাকে যেতে দেওয়া হয়নি। তার চাচারা তাকে বকাবকি করেন। ঘটনার সময় তার বাবা মোজাম্মেল হক ও মা রোজিনা বেগম বাসায় ছিলেন না। থার্টিফার্স্ট নাইটে বের হতে না দেওয়া ও বকাবকি করায় ক্ষিপ্ত হয়ে সকাল ৯টার দিকে বাসার সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলে গুরুতর আহত হয়।

রাত-দিনের ঘটনাবলি ও রহস্যসমূহ


রাত-দিনের ঘটনাবলি ও রহস্যসমূহ
রাত-দিন আল্লাহর অলৌকিক নিদর্শন, দু’টি আশ্চর্য সৃষ্টি ও রহস্য ঘেরা মখলুক। এ জন্য কুরআনুল কারীমে বারবার এর উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন তিনি বলেছেন:
﴿ وَمِنۡ ءَايَٰتِهِ ٱلَّيۡلُ وَٱلنَّهَارُ ٣٧ ﴾ [فصلت: ٣٧] 
আর তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে রয়েছে রাত ও দিন [সূরা ফুস্‌সিলাত: (৩৭)] অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে:
﴿ وَهُوَ ٱلَّذِي جَعَلَ لَكُمُ ٱلَّيۡلَ لِبَاسٗا وَٱلنَّوۡمَ سُبَاتٗا وَجَعَلَ ٱلنَّهَارَ نُشُورٗا ٤٧ ﴾ [الفرقان: ٤٧] 
আর তিনিই তোমাদের জন্য রাতকে আবরণ ও নিদ্রাকে আরামপ্রদ করেছেন এবং দিনকে করেছেন জাগ্রত থাকার সময় [সূরা ফুরকান: (৪৭)] আরো ইরশাদ হচ্ছে:
﴿ ٱللَّهُ ٱلَّذِي جَعَلَ لَكُمُ ٱلَّيۡلَ لِتَسۡكُنُواْ فِيهِ وَٱلنَّهَارَ مُبۡصِرًاۚ ٦١ ﴾ [غافر: ٦١] 
আল্লাহ, যিনি তোমাদের জন্য রাত বানিয়েছেন যাতে তোমরা তাতে বিশ্রাম করতে পার এবং দিনকে করেছেন আলোকোজ্জ্বল [সূরা গাফের: (৬১)] এ জাতীয় আরো আয়াত রয়েছে।